The key points are temporarily unavailable. You can still read the full Story below.
Main Points
আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও পৃথিবীতে এমন কিছু প্রাচীন জীবন্ত সত্তা টিকে আছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পৃথিবীর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। নিচে বিশ্বের এমন ১০টি প্রাচীনতম জীবন্ত প্রাণ ও উদ্ভিদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো: উইজডম (লেসান অ্যালবাট্রস): পাখির জগতে ‘উইজডম’ এখন পর্যন্ত পৃথিবীর প্রাচীনতম নিশ্চিত বন্য পাখি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৬ সালে জীববিজ্ঞানী চ্যান্ডলার রবিন্স যখন তাকে শনাক্তকরণ ব্যান্ড পরিয়ে দেন, তখন সে প্রাপ্তবয়স্ক ছিল। বর্তমানে অন্তত ৭৫ বছর বয়সী এই পাখিটি প্রশান্ত মহাসাগরের মিডওয়ে অ্যাটল দ্বীপে প্রতি শীতে ফিরে আসে। দীর্ঘ জীবনে সে তিন মিলিয়ন মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। জোনাথন (দৈত্যাকার কচ্ছপ): দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী অলডাব্রা প্রজাতির এই কচ্ছপটির বয়স প্রায় ১৯৪ বছর। ১৮৩২ সালে জন্ম নেওয়া জোনাথন পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবিত ডাঙার প্রাণী। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, তার জিনে ডিএনএ মেরামত ও প্রদাহ কমানোর বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে, যা মানুষের আয়ু বৃদ্ধির গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। থাউজেন্ড ইয়ার রোজ (সহস্রাব্দের গোলাপ): জার্মানির হিল্ডেশাইমে অবস্থিত সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রালের দেয়ালে বেড়ে ওঠা এই বনগোলাপটি ৮১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা লুডভিগ দ্য পিউস রোপণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্যাথেড্রালটি ধ্বংস হলেও অলৌকিকভাবে গাছটির মূল বেঁচে যায়। বর্তমানে এটি ৩০ ফুটেরও বেশি উঁচু। জয়া শ্রী মহা বোধি: শ্রীলঙ্কার অনুরাধাপুরে অবস্থিত এই পবিত্র অশ্বত্থ গাছটি খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ অব্দে বুদ্ধের মূল বোধিবৃক্ষের একটি শাখা থেকে রোপণ করা হয়েছিল। এটি মানব ইতিহাসে হাতে রোপণ করা নথিভুক্ত সবচেয়ে প্রাচীন জীবিত বৃক্ষ। ভুভেসের জলপাই গাছ: গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত এই জলপাই গাছটির বয়স প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ বছর। বিস্ময়করভাবে আজও গাছটি প্রতি বছর ফল দিয়ে যাচ্ছে। ইয়ারেটা: পেরু, বলিভিয়া ও চিলির আন্দিজ পর্বতমালায় জন্মানো এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদটি অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ে। শতাব্দীতে মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধি পাওয়া এই উদ্ভিদগুলো প্রায় তিন হাজার বছর ধরে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে আছে। মেথুসেলাহ: ক্যালিফোর্নিয়ার হোয়াইট মাউন্টেনসে অবস্থিত এই ব্রিসলকন পাইন গাছটি ক্লোনহীন একক উদ্ভিদ হিসেবে পৃথিবীর প্রাচীনতম। প্রায় ৫,০০০ বছর বয়সী এই গাছটির সঠিক অবস্থান সুরক্ষার স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে। অ্যান্টার্কটিকার আগ্নেয়গিরি স্পঞ্জ: অ্যান্টার্কটিকার গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী ‘অ্যানক্সিকেলিক্স জুবিনি’ নামক এই স্পঞ্জগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এদের মধ্যে কিছু স্পঞ্জের বয়স প্রায় ১৫,০০০ বছর। পান্ডো: যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাতে অবস্থিত এই ট্রেম্বলিং অ্যাস্পেন অরণ্যটি প্রায় ৫০,০০০ গাছ নিয়ে গঠিত। জেনেটিক্যালি এই বিশাল অরণ্যের প্রতিটি গাছ একই মূল বা শিকড় ব্যবস্থা ভাগ করে নেয়, যা একে একটি একক জীবন্ত প্রাণীতে পরিণত করেছে। ১০০ একরজুড়ে বিস্তৃত এই ক্লোনাল কলোনিটির বয়স প্রায় ৮০,০০০ বছর। নেপচুনস গ্রাস: স্পেনের ফরমানতেরা দ্বীপের কাছে ভূমধ্যসাগরের তলদেশে প্রায় ১০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই সি-গ্রাস মেডো বা সামুদ্রিক ঘাস। জিনতাত্ত্বিকদের মতে, এটি নিজেকে ক্লোন করে টিকে আছে এবং প্রায় ২ লাখ বছর বয়স নিয়ে এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম একক জীবিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika
আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও পৃথিবীতে এমন কিছু প্রাচীন জীবন্ত সত্তা টিকে আছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পৃথিবীর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। নিচে বিশ্বের এমন ১০টি প্রাচীনতম জীবন্ত প্রাণ ও উদ্ভিদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো: উইজডম (লেসান অ্যালবাট্রস): পাখির জগতে ‘উইজডম’ এখন পর্যন্ত পৃথিবীর প্রাচীনতম নিশ্চিত বন্য পাখি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৬ সালে জীববিজ্ঞানী চ্যান্ডলার রবিন্স যখন তাকে শনাক্তকরণ ব্যান্ড পরিয়ে দেন, তখন সে প্রাপ্তবয়স্ক ছিল। বর্তমানে অন্তত ৭৫ বছর বয়সী এই পাখিটি প্রশান্ত মহাসাগরের মিডওয়ে অ্যাটল দ্বীপে প্রতি শীতে ফিরে আসে। দীর্ঘ জীবনে সে তিন মিলিয়ন মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। জোনাথন (দৈত্যাকার কচ্ছপ): দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী অলডাব্রা প্রজাতির এই কচ্ছপটির বয়স প্রায় ১৯৪ বছর। ১৮৩২ সালে জন্ম নেওয়া জোনাথন পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবিত ডাঙার প্রাণী। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, তার জিনে ডিএনএ মেরামত ও প্রদাহ কমানোর বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে, যা মানুষের আয়ু বৃদ্ধির গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। থাউজেন্ড ইয়ার রোজ (সহস্রাব্দের গোলাপ): জার্মানির হিল্ডেশাইমে অবস্থিত সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রালের দেয়ালে বেড়ে ওঠা এই বনগোলাপটি ৮১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা লুডভিগ দ্য পিউস রোপণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্যাথেড্রালটি ধ্বংস হলেও অলৌকিকভাবে গাছটির মূল বেঁচে যায়। বর্তমানে এটি ৩০ ফুটেরও বেশি উঁচু। জয়া শ্রী মহা বোধি: শ্রীলঙ্কার অনুরাধাপুরে অবস্থিত এই পবিত্র অশ্বত্থ গাছটি খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ অব্দে বুদ্ধের মূল বোধিবৃক্ষের একটি শাখা থেকে রোপণ করা হয়েছিল। এটি মানব ইতিহাসে হাতে রোপণ করা নথিভুক্ত সবচেয়ে প্রাচীন জীবিত বৃক্ষ। ভুভেসের জলপাই গাছ: গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত এই জলপাই গাছটির বয়স প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ বছর। বিস্ময়করভাবে আজও গাছটি প্রতি বছর ফল দিয়ে যাচ্ছে। ইয়ারেটা: পেরু, বলিভিয়া ও চিলির আন্দিজ পর্বতমালায় জন্মানো এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদটি অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ে। শতাব্দীতে মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধি পাওয়া এই উদ্ভিদগুলো প্রায় তিন হাজার বছর ধরে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে আছে। মেথুসেলাহ: ক্যালিফোর্নিয়ার হোয়াইট মাউন্টেনসে অবস্থিত এই ব্রিসলকন পাইন গাছটি ক্লোনহীন একক উদ্ভিদ হিসেবে পৃথিবীর প্রাচীনতম। প্রায় ৫,০০০ বছর বয়সী এই গাছটির সঠিক অবস্থান সুরক্ষার স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে। অ্যান্টার্কটিকার আগ্নেয়গিরি স্পঞ্জ: অ্যান্টার্কটিকার গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী ‘অ্যানক্সিকেলিক্স জুবিনি’ নামক এই স্পঞ্জগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এদের মধ্যে কিছু স্পঞ্জের বয়স প্রায় ১৫,০০০ বছর। পান্ডো: যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাতে অবস্থিত এই ট্রেম্বলিং অ্যাস্পেন অরণ্যটি প্রায় ৫০,০০০ গাছ নিয়ে গঠিত। জেনেটিক্যালি এই বিশাল অরণ্যের প্রতিটি গাছ একই মূল বা শিকড় ব্যবস্থা ভাগ করে নেয়, যা একে একটি একক জীবন্ত প্রাণীতে পরিণত করেছে। ১০০ একরজুড়ে বিস্তৃত এই ক্লোনাল কলোনিটির বয়স প্রায় ৮০,০০০ বছর। নেপচুনস গ্রাস: স্পেনের ফরমানতেরা দ্বীপের কাছে ভূমধ্যসাগরের তলদেশে প্রায় ১০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই সি-গ্রাস মেডো বা সামুদ্রিক ঘাস। জিনতাত্ত্বিকদের মতে, এটি নিজেকে ক্লোন করে টিকে আছে এবং প্রায় ২ লাখ বছর বয়স নিয়ে এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম একক জীবিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত।
News Desk is the editorial publishing account for Tringlobe Media News, covering breaking news, public affairs, entertainment, community developments and regional stories across Trinidad and Tobago, the Caribbean and internationally.