The key points are temporarily unavailable. You can still read the full Story below.
Main Points
বিদেশে কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মান যাচাইয়ের জন্য কার্যকর গ্রেডিং ব্যবস্থা এখনো চালু করতে পারেনি সরকার। ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নির্ভরযোগ্য এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো মানদণ্ড পাচ্ছেন না। বুধবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংলাপে এ তথ্য উঠে আসে। উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অনিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং সাব-এজেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সংলাপে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিনি জানান, সাব-এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যার তৈরির কাজও এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। ভবিষ্যতে এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কর্মীরা অর্থ প্রদানের আগে তাদের পরিচয় যাচাই করতে পারেন। সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ কমেছে। এ বছর ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। উইটনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী জানান, বিদেশে যাওয়ার খরচ তুলতে একজন কর্মীর গড়ে প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে। এ খাতে ১ হাজার ৪১৪টি অভিযোগের মধ্যে ৭৮৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের রসিদ বা প্রমাণ না থাকায় মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সৌদি আরবের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অভিবাসন খাতে ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংলাপে বক্তারা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক অভিযোগ করেন, অনেক এজেন্সি অর্থ নিলেও রসিদ দেয় না এবং কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে ভিসা কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম জানান, ২০২০ সালে শ্রেণিবিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। তিনি বিদেশে নিজস্ব প্রতিনিধি না রেখে এজেন্সিগুলোর মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করার সমালোচনা করেন। সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের আইনজীবী ফরিদা ইয়াসমিন সাব-এজেন্টদের নিবন্ধনের পাশাপাশি কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের দাবি জানান। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রেহনুমা সালাম খান বলেন, শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ না করে কর্মীদের দক্ষতা, কর্মপরিবেশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বায়রার সাবেক যুগ্ম সচিব ফখরুল ইসলাম নিয়োগপ্রক্রিয়ার অনলাইন রেকর্ড রাখা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন। সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রতিনিধি আহমেদ আজিজ নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক জানান, অভিবাসন ব্যয় পর্যালোচনায় একটি কমিটি কাজ করছে। তবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর চাপের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিয়োগ সীমিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নে জটিলতা রয়েছে। এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika
বিদেশে কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মান যাচাইয়ের জন্য কার্যকর গ্রেডিং ব্যবস্থা এখনো চালু করতে পারেনি সরকার। ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নির্ভরযোগ্য এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো মানদণ্ড পাচ্ছেন না। বুধবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংলাপে এ তথ্য উঠে আসে। উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অনিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং সাব-এজেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সংলাপে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিনি জানান, সাব-এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যার তৈরির কাজও এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। ভবিষ্যতে এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কর্মীরা অর্থ প্রদানের আগে তাদের পরিচয় যাচাই করতে পারেন। সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ কমেছে। এ বছর ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। উইটনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী জানান, বিদেশে যাওয়ার খরচ তুলতে একজন কর্মীর গড়ে প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে। এ খাতে ১ হাজার ৪১৪টি অভিযোগের মধ্যে ৭৮৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের রসিদ বা প্রমাণ না থাকায় মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সৌদি আরবের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অভিবাসন খাতে ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংলাপে বক্তারা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক অভিযোগ করেন, অনেক এজেন্সি অর্থ নিলেও রসিদ দেয় না এবং কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে ভিসা কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম জানান, ২০২০ সালে শ্রেণিবিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। তিনি বিদেশে নিজস্ব প্রতিনিধি না রেখে এজেন্সিগুলোর মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করার সমালোচনা করেন। সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের আইনজীবী ফরিদা ইয়াসমিন সাব-এজেন্টদের নিবন্ধনের পাশাপাশি কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের দাবি জানান। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রেহনুমা সালাম খান বলেন, শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ না করে কর্মীদের দক্ষতা, কর্মপরিবেশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বায়রার সাবেক যুগ্ম সচিব ফখরুল ইসলাম নিয়োগপ্রক্রিয়ার অনলাইন রেকর্ড রাখা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন। সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রতিনিধি আহমেদ আজিজ নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক জানান, অভিবাসন ব্যয় পর্যালোচনায় একটি কমিটি কাজ করছে। তবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর চাপের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিয়োগ সীমিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নে জটিলতা রয়েছে। এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
News Desk is the editorial publishing account for Tringlobe Media News, covering breaking news, public affairs, entertainment, community developments and regional stories across Trinidad and Tobago, the Caribbean and internationally.