The key points are temporarily unavailable. You can still read the full Story below.
Main Points
যশোর কারাগারে ৪৩ ভারতীয় বন্দী এখনও প্রত্যাবাসিত হননি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫২ জন ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে আটক রয়েছেন, যার মধ্যে ৪৩ জনের সাজা শেষ হয়েছে কিন্তু তারা দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি। কারাগার কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে যে, ১৫ দিন থেকে দুই বছরের সাজা থাকা বন্দিরাও ৮ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। বন্দিদের মধ্যে সাতজন নারী এবং ২৪ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। দীর্ঘদিনের বন্দিত্বে অনেকের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ### দুই ভারতীয়ের মৃত্যু ও মর্গে অবস্থা বাছুল মাঝি – কাঁকড়ারা গ্রাম, মেজরগঞ্জ থানার বাসিন্দা বাছুল মাঝি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩-এ খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হন। পরদিন আদালত তাকে ছয় মাসের বিনা শ্রম কারাদণ্ড দেন। সাজা শেষ হওয়ার পর ২০ নভেম্বর ২০১৮-এ তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারাগারে থাকাকালীন তিনি সিজোফ্রেনিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। ৯ অক্টোবর তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। গাজী – পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বাসিন্দা গাজী অস্ত্র আইনের মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৯ অক্টোবর তিনি মারা যান। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত জানান, “হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রাখার চারটি চেম্বার রয়েছে। এর মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। দুটিতে ভারতীয় বন্দীদের মরদেহ। ফলে অন্য মরদেহ রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।” ### প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, “অধিকাংশ বন্দী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রত্যাবাসনের অনুমোদন পেয়েছেন। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না মেলায় তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে সাড়া না পেলে আদালতের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর বিকল্প নিয়েও ভাবা হচ্ছে।” জনপ্রিয় আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, সাজা শেষ হওয়ার পরও বন্দী রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। যশোরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমিনুর রহমান হিরু বলেন, “সাজা শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের কারাগারে থাকা দুঃখজনক। এদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।” পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, “৪৫ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও বন্দী হস্তান্তরের জটিলতায় তাঁরা মুক্তি পাননি। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে। সাজা শেষে মুক্তি পাওয়া তাঁদের মানবাধিকার।” ### দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা বন্দিরা – চারল দেবী (৪৮), বেহারার বাসিন্দা, ১২ জানুয়ারি ২০২৪-এ শরীয়তপুরে আটক হন। আদালত তাকে ৮ মাসের কারাদণ্ড দেন। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ সাজা শেষ হলেও মুক্তি পাননি। তিনি দিনের বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করেন। – গোবিন্দ বিহারী (৪৭), বেহারার বাসিন্দা, ২০১১ সালে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড পান। সাজা শেষ হওয়ার পরও প্রায় ১৪ বছর ধরে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, “আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া যত জটিলই হোক, মানবিক বিবেচনায় এমন ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। মৃত্যুর পর মর্গে পড়ে থাকা মরদেহগুলোর মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার অধিকারও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত।” ### উপসংহার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪৩ জন ভারতীয় বন্দী সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাবাসিত হননি। কারাগার কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার কর্মীরা দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সাথে Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika
যশোর কারাগারে ৪৩ ভারতীয় বন্দী এখনও প্রত্যাবাসিত হননি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫২ জন ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে আটক রয়েছেন, যার মধ্যে ৪৩ জনের সাজা শেষ হয়েছে কিন্তু তারা দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি। কারাগার কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে যে, ১৫ দিন থেকে দুই বছরের সাজা থাকা বন্দিরাও ৮ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। বন্দিদের মধ্যে সাতজন নারী এবং ২৪ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। দীর্ঘদিনের বন্দিত্বে অনেকের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ### দুই ভারতীয়ের মৃত্যু ও মর্গে অবস্থা বাছুল মাঝি – কাঁকড়ারা গ্রাম, মেজরগঞ্জ থানার বাসিন্দা বাছুল মাঝি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩-এ খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হন। পরদিন আদালত তাকে ছয় মাসের বিনা শ্রম কারাদণ্ড দেন। সাজা শেষ হওয়ার পর ২০ নভেম্বর ২০১৮-এ তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারাগারে থাকাকালীন তিনি সিজোফ্রেনিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। ৯ অক্টোবর তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। গাজী – পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বাসিন্দা গাজী অস্ত্র আইনের মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৯ অক্টোবর তিনি মারা যান। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত জানান, “হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রাখার চারটি চেম্বার রয়েছে। এর মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। দুটিতে ভারতীয় বন্দীদের মরদেহ। ফলে অন্য মরদেহ রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।” ### প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, “অধিকাংশ বন্দী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রত্যাবাসনের অনুমোদন পেয়েছেন। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না মেলায় তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে সাড়া না পেলে আদালতের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর বিকল্প নিয়েও ভাবা হচ্ছে।” জনপ্রিয় আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, সাজা শেষ হওয়ার পরও বন্দী রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। যশোরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমিনুর রহমান হিরু বলেন, “সাজা শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের কারাগারে থাকা দুঃখজনক। এদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।” পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, “৪৫ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও বন্দী হস্তান্তরের জটিলতায় তাঁরা মুক্তি পাননি। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে। সাজা শেষে মুক্তি পাওয়া তাঁদের মানবাধিকার।” ### দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা বন্দিরা – চারল দেবী (৪৮), বেহারার বাসিন্দা, ১২ জানুয়ারি ২০২৪-এ শরীয়তপুরে আটক হন। আদালত তাকে ৮ মাসের কারাদণ্ড দেন। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ সাজা শেষ হলেও মুক্তি পাননি। তিনি দিনের বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করেন। – গোবিন্দ বিহারী (৪৭), বেহারার বাসিন্দা, ২০১১ সালে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড পান। সাজা শেষ হওয়ার পরও প্রায় ১৪ বছর ধরে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, “আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া যত জটিলই হোক, মানবিক বিবেচনায় এমন ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। মৃত্যুর পর মর্গে পড়ে থাকা মরদেহগুলোর মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার অধিকারও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত।” ### উপসংহার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪৩ জন ভারতীয় বন্দী সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাবাসিত হননি। কারাগার কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার কর্মীরা দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সাথে
News Desk is the editorial publishing account for Tringlobe Media News, covering breaking news, public affairs, entertainment, community developments and regional stories across Trinidad and Tobago, the Caribbean and internationally.