গত ১ আগস্ট থেকে পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই ডিজিটালে সম্প্রচার শুরু হয়েছে ড্রামা সিরিজ ‘দার-এ-নিজাত’। ২৬ পর্ব প্রচারের পর থেকেই সিরিজটি পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ এবং পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত এই সিরিজটি একদিকে যেমন দর্শকদের রহস্য ও রোমান্সে বুঁদ করে রেখেছে, অন্যদিকে নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র যারইয়াব একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণী, যে তার প্রেমিক জামিলের জন্য হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ ত্যাগ করে। জামিল অন্য কাউকে বিয়ে করলে যারইয়াব মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এরপর পরিবারের সিদ্ধান্তে তার বিয়ে হয় আবু বকরের সঙ্গে, যে একজন ধর্মভীরু ও হার্ভার্ড ফেরত প্রকৌশলী। এই প্লটটিই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বর্তমান সময়েও একজন নারীর মানসিক নিরাময়ের উপায় হিসেবে কেবল বিয়ে বা পুরুষ রক্ষাকর্তার ওপর নির্ভরশীলতাকে দেখানো সেকেলে। তাদের দাবি, যারইয়াব কোনো পুরুষের সাহায্য ছাড়াই নিজের ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিয়ে জীবন নতুন করে সাজাতে পারত। সিরিজটির পুরুষ চরিত্র আবু বকর নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। মায়ের প্রতি তার অন্ধ ভক্তি এবং মায়ের জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সমালোচকদের মতে, এমন একজন পুরুষ তার স্ত্রীর অধিকার রক্ষায় কতটা সক্ষম হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আবার যারইয়াবের চরিত্রটিকেও অনেকে স্বার্থপর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যে মানসিক আঘাতের দোহাই দিয়ে আবু বকরের আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে খেলছে। সিরিজটির অভিনয়শিল্পীরাও এই বিতর্ক নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। যারইয়াব চরিত্রে অভিনয় করা দুরেফিশান সেলিম জানান, তিনিও ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলেন চরিত্রটি যেন হার্ভার্ডে ফিরে গিয়ে স্বাবলম্বী হয়। আবু বকরের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা সানিয়া সাঈদ বিবিসি উর্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, সমাজে এখনো মেয়েদের যেকোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে বিয়ে দেওয়াকে একমাত্র পথ মনে করা হয়। তিনি আরও বলেন, লেখিকা উমেরা আহমেদ মূলত সমাজের এই ভুল ধারণাগুলো এবং অন্ধভাবে আদেশ পালন করা অনুগত ছেলের মানসিকতাকে পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যার মিল থাকার কারণেই সিরিজটি উপমহাদেশের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরার বিষয়টিই দর্শকদের বেশি আকৃষ্ট করছে। ‘দার-এ-নিজাত’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার ও দুরেফিশান সেলিম। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন নামির নওয়াজ খান, সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ, ফারহান তাহির, রোমাইসা খান ও নাদিয়া আফগান।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika