বাণিজ্যিকভাবে চালু না হওয়া ৮,৩০০ কোটি টাকার সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (SPM) প্রকল্পটি অবশেষে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান PT Pertamina Trans Continental‑এর সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPSC)। চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০২৪ সালের বৃহস্পতিবার ঢাকা শহরের BPSC লিয়াজোঁ অফিসে। উপস্থিত ছিলেন BPSC‑এর চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতি, BPSC‑এর পরিকল্পনা পরিচালক মুহাম্মদ আসাদুল হক, এবং PT Pertamina Trans Continental‑এর প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর হ্যারিস আবদি সেমবিরিং মেলিয়ালা। চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ১,৯৪৬ কোটি টাকার জন্য পাঁচ বছরের মেয়াদে SPM স্থাপনার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ PT Pertamina Trans Continental করবে। SPM প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মার্চে নির্মাণ ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করে, তবে অপারেটর নিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতিতে বিলম্বের কারণে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮,২৯৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা চীনের অর্থায়নে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড দ্বারা নির্মিত। প্রাথমিক অনুমান ছিল ৫,০০০ কোটি টাকার, পরে তা বেড়ে যায়। BPSC‑এর মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ.কে.এম. নইম উল্যা জানিয়েছেন যে, “আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে SPM‑এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।” SPM‑এ ফ্লোটিং মুরিং, পাম্পিং স্টেশন, ট্যাংক ফার্ম এবং প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন অন্তর্ভুক্ত। অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল পরিবহনের জন্য পৃথক পাইপলাইন রয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল খালাসে ১০ থেকে ১২ দিন লাগে; SPM‑এ একই পরিমাণ তেল ৪৮ ঘণ্টায় খালাস করা যাবে। ৬০–৭০ হাজার টন ডিজেল খালাসে ২৮ ঘণ্টা লাগবে। ফলে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে, লাইটারেজ জাহাজের ব্যবহার ও পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। BPSC‑এর অনুমান অনুযায়ী, প্রকল্পটি পূর্ণ সক্ষমতায় চললে বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে। SPM প্রকল্পের মাধ্যমে বড় তেলবাহী জাহাজ (মাদার ট্যাংকার) থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল খালাস করে মহেশখালীর কালারমারছড়ায় নির্মিত ট্যাংকে পৌঁছে, সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনার
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika