কুমিল্লায় কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ও সুরস্রষ্টা শচীন দেব বর্মণের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘শচীন মেলা-২০২৬’ শুরু হয়েছে। মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার নগরীর ইউসুফ হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শচীন দেব বর্মণের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে শচীন দেব বর্মণের পৈতৃক বাড়িতে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রোজী আকতার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও মেলার আহ্বায়ক আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম মনিরুজ্জামান, লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, কুমিল্লা মহানগর জাসাসের সভাপতি ডা. আহসান আনিস এবং ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল। শিশু বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেয় কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইত্তিহাদ আহমেদ নন্দিত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহাতাব সোহেল ও ডা. রোমানা রুমী। সাংস্কৃতিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন জেলা কালচারাল অফিসার এস এম টি কামরান হাসান। আলোচনায় বক্তারা বলেন, শচীন দেব বর্মণ বাংলা ও হিন্দি সংগীতের এক কালজয়ী সুরস্রষ্টা। তাঁর অসাধারণ সংগীতপ্রতিভা ও সুরের বৈচিত্র্য উপমহাদেশের সংগীতজগতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। বক্তারা আরও বলেন, কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তির সৃষ্টিকর্ম কেবল সংগীতের সম্পদ নয়, এটি এই অঞ্চলের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তাঁর জীবন ও সংগীতসাধনা সম্পর্কে জানাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর অবদান তুলে ধরতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। উল্লেখ্য, শচীন দেব বর্মণ ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ও হিন্দি সংগীতে অসামান্য অবদানের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika