শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লিতে ফাতেমা রানীর ২৯তম তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার রাতে হাজারো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে এক আলোক শোভাযাত্রা বের করা হয়। আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, এবারের তীর্থোৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল ‘মানবতার জননী: ফাতেমা রানী মা মারিয়া’। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার খ্রিষ্টভক্ত মোমবাতি হাতে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আলোক শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে মা মারিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর রাত ১১টায় আরাধ্য সাক্রামেন্টের আরাধনা এবং মধ্যরাতে নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশি জাগরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় জীবন্ত ক্রুশের পথ এবং সকাল ১০টায় মহাখ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। ১৯৪২ সালে ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লিকে ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের প্রয়াত বিশপ ফ্রান্সিস এ গমেজ ‘ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এখানে তীর্থোৎসব পালিত হয়ে আসছে। এবারের উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খ্রিষ্টভক্তদের পাশাপাশি বিদেশি পুণ্যার্থীরাও অংশ নিয়েছেন। তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, উৎসবস্থলে ৪০০-এর বেশি পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো ধর্মপল্লি গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আনসার, ফায়ার সার্ভিস, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন। উৎসবের সমন্বয়কারী রেভারেন্ট ফাদার তরুণ বনোয়ারি জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উৎসবটি সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তীর্থযাত্রীরা তাদের বিশ্বাস ও মানত পূরণের আশায় প্রতিবছর দূর-দূরান্ত থেকে এই পবিত্র স্থানে সমবেত হন। অনুষ্ঠানে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika