টেরাকোটার রূপকথা কান্তজিউ মন্দির

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে ঢেপা নদীর তীরে অবস্থিত কান্তজিউ মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও নান্দনিক স্থাপত্য নিদর্শন। ইন্দো-পারস্য ভাস্কর্যশৈলীতে ইটের তৈরি অষ্টাদশ শতাব্দীর এই মন্দিরটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে নিবেদিত। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭০৪ সালে মহারাজা প্রাণনাথ রায় এই মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পোষ্যপুত্র রামনাথ রায় নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন। দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে কাজ চলার পর ১৭৫২ সালে মন্দিরটির নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং সে বছরই এটি উৎসর্গ করা হয়। শুরুতে মন্দিরটির চূড়ার উচ্চতা ছিল ৭০ ফুট। তবে ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে চূড়াগুলো ভেঙে পড়লে পরবর্তীতে মহারাজা গিরিজানাথ এর ব্যাপক সংস্কার করেন। পাথরের ভিত্তির ওপর নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার এই বর্গাকার মন্দিরটির নিচতলায় ২১টি, দ্বিতীয় তলায় ২৭টি এবং তৃতীয় তলায় তিনটি খিলানযুক্ত দরজা রয়েছে। মন্দিরটির প্রধান আকর্ষণ এর গায়ে থাকা টেরাকোটার কাজ। পুরো মন্দিরে প্রায় ১৫ হাজার পোড়ামাটির ফলক রয়েছে, যার প্রতিটিই অনন্য। এসব ফলকে রামায়ণ, মহাভারত, বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি এবং মধ্যযুগীয় বাংলার সামাজিক জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মন্দিরের চার দেয়ালে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—এই চার যুগের পৌরাণিক কাহিনি চিত্রায়িত থাকায় একে অনেক সময় ‘টেরাকোটায় আচ্ছাদিত মহাকাব্য’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কান্তজিউ মন্দিরে যাতায়াতের জন্য দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে দিনাজপুরে পৌঁছাতে হবে। দিনাজপুর শহরের কালীতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাস, অটোরিকশা বা ইজিবাইকে করে সরাসরি মন্দির প্রাঙ্গণে যাওয়া যায়। এছাড়া ট্রেনযোগে দিনাজপুর স্টেশনে নেমেও অটোরিকশা বা ইজিবাইক রিজার্ভ করে মন্দিরটিতে পৌঁছানো সম্ভব।

Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika

News Desk: News Desk is the editorial publishing account for Tringlobe Media News, covering breaking news, public affairs, entertainment, community developments and regional stories across Trinidad and Tobago, the Caribbean and internationally.