লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে খোরশেদ আলম নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার পার্বতীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন ইব্রাহিম ছুট্টু ও মাসুদ রানা। ইব্রাহিম ছুট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে এবং মাসুদ রানা বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার দুপুরে পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছুট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু ও জহিরসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, খোরশেদ আলম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় মাটির ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মো. মোরশেদ আলম ও মজিদ হোসেনের গ্রুপের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই বিরোধের জের ধরে বুধবার দুপুরে খোরশেদ আলমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দিলশাদপুর খাঁনের বাড়ির পাশে গুলি করা হয়। এতে তাঁর বুকে একাধিক গুলি লাগে। স্বজনদের অভিযোগ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika