ইসলামি শরিয়তে নামাজ মুমিনের জীবনের অন্যতম প্রধান ইবাদত এবং স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির গভীর সম্পর্কের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৩৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা নামাজের প্রতি পুরোপুরি যত্নবান থেকো এবং বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাজের প্রতি। আর আল্লাহর সামনে আদবের সঙ্গে অনুগত হয়ে দাঁড়াও।’ মুমিনের ঈমান ও সফলতার পরিচয় হিসেবে নামাজকে অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত দেয়, তাদের জন্য প্রতিপালকের কাছে প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না। এছাড়া সুরা আনফালের ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে নামাজ কায়েমকারীদের প্রকৃত মুমিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাদের জন্য উচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিকের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পরকালীন জীবনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। যদি তা সঠিক বলে গণ্য হয়, তবে সে হবে কল্যাণপ্রাপ্ত ও সফলকাম। আর যদি তা সঠিক বলে গণ্য না হয়, তবে সে হবে বিফল ও ক্ষতিগ্রস্ত’ (জামে তিরমিজি: ৪১৩)। নামাজে অবহেলার পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করবে, কিয়ামতের দিন নামাজ তার জন্য নুর ও দলিল হিসেবে কাজ করবে। আর যারা সঠিকভাবে নামাজ পালন করবে না, তাদের জন্য সেদিন কোনো নুর বা দলিল থাকবে না এবং তাদের নাজাতের কোনো উপায় থাকবে না। হাদিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নামাজে অবহেলাকারীরা কিয়ামতের দিন কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালাফের সঙ্গে থাকবে (মুসনাদ আহমাদ: ৬৫৭৬)।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika