যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জনমত জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের এক জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে তারা এমন পেশায় নিয়োজিত, যার উদ্দেশ্য তাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অর্থবহ। গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থবহ কাজ মানসিক ক্লান্তি কমায় এবং কাজের প্রতি আগ্রহ ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে। নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশা খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞরা তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, নিজের ভালো লাগাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। পেশা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বা কর্মজীবন শুরুর প্রাক্কালে কোন কাজটি আনন্দ দেয় এবং কোন কাজে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পাওয়া যায়, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে অবসরের শখ থেকেও পেশা গড়ে তোলা সম্ভব। তাই নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা বুঝে এমন কাজ নির্বাচন করা উচিত, যা দীর্ঘমেয়াদে আনন্দদায়ক হবে। দ্বিতীয়ত, কাজের ধরন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। অর্থবহ পেশা মানেই কেবল সমাজসেবা নয়; বরং নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও দক্ষতার সঙ্গে মানানসই যেকোনো পেশাতেই তৃপ্তি পাওয়া সম্ভব। চাকরিবিষয়ক ওয়েবসাইট ইনডিডের সুখী পেশাজীবীদের তালিকায় বিপণন পরামর্শক ও প্রকৌশল প্রযুক্তিবিদের মতো পেশাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই অন্যের পছন্দের চেয়ে নিজের দক্ষতা ও কাজের ধরনকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি কার্যকর। তৃতীয়ত, সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়া। পছন্দের কাজের জন্য সবসময় চাকরি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না; বর্তমান কর্মক্ষেত্রেও নতুন দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আগ্রহের জায়গা তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও থাকে। তবে যেকোনো বড় সিদ্ধান্তের আগে লক্ষ্য নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সঞ্চয় রাখা এবং ঋণের চাপ কমিয়ে আবেগতাড়িত না হয়ে সুপরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পেশা কেবল আয়ের উৎস নয়, বরং এটি আত্মতৃপ্তি ও জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়ার একটি মাধ্যম হতে পারে।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika