কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলেও এতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের একটি বড় অংশের সার বিক্রির পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এবং তাদের নিজস্ব গুদামও নেই। এ ছাড়া অধিকাংশ ডিলার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় দেখা গেছে, বিএনপি নেতার বয়স্ক মা ও স্ত্রী এবং কৃষি কর্মকর্তার বাবাকেও ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের ফলে আসন্ন মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার না পেলে তা সামগ্রিক কৃষি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালীন শাকসবজি চাষ এবং পরবর্তী ইরি মৌসুমে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক দাবি করেছেন, শতভাগ নীতিমালা মেনেই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষিমন্ত্রীও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ডিলারশিপ পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ের অনিশ্চয়তা কাটাতে শুধু আশ্বাস যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোতে নতুন নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, সিদ্ধান্তগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া মাত্রই রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অযোগ্যদের ডিলারশিপ বাতিল এবং যোগ্যদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। কৃষি খাতকে দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যাপ্ত সারের মজুত নিশ্চিত করে সিন্ডিকেট ও কালোবাজারি শক্ত হাতে দমন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika