এমবাপ্পের এক ‘রসিকতা’র এমন চড়া মূল্য

চীনের সাবেক নেতা মাও সে-তুংকে নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে চীনের তিনটি বড় প্রতিষ্ঠান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে এমবাপ্পেকে বলতে শোনা যায়, ইন্টারনেটে দেখা সবচেয়ে মজার মিম ছিল তার নিজের মুখের ছবি অন্য একজনের ওপর বসিয়ে তৈরি করা। সেই ব্যক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে এমবাপ্পে তাকে ‘একজন চীনা স্বৈরশাসক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি চীনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাও সে-তুংকে নিয়ে তৈরি একটি মিমের কথা বলছিলেন। তবে এএফপির তথ্য যাচাই বিভাগ ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। চীনের প্রতিষ্ঠাতা নেতাকে নিয়ে রসিকতা দেশটিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ডংপেং, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী মেংনিউ এবং পনির প্রস্তুতকারক মিল্কগ্রাউন্ড এমবাপ্পের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। ডংপেং জানিয়েছে, জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন আচরণের ক্ষেত্রে তাদের নীতি ‘শূন্য সহনশীলতা’। চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে ‘এমবাপ্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ডংপেং’ শীর্ষক আলোচনাটি ৪৩ কোটি বার দেখা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পেপার’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচার স্থগিত করেছে এবং এমবাপ্পেকে নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপনগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এ বিষয়ে বলেন, চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কথা ও আচরণ দেশটির বিভিন্ন মহলের সম্মিলিত বিরোধিতার মুখে পড়বে। এর আগেও বিভিন্ন ক্রীড়া ও বিনোদন তারকা চীনের স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাস্কেটবল তারকা ডোয়াইট হাওয়ার্ড, যিনি তাইওয়ানকে ‘দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এছাড়া হলিউড অভিনেতা জন সিনা, এনবিএ কর্মকর্তা ড্যারিল মোরি, বাস্কেটবল খেলোয়াড় এনেস ক্যান্টার ফ্রিডম এবং ফুটবলার মেসুত ওজিল তাইওয়ান, হংকং, তিব্বত ও জিনজিয়াং ইস্যুতে মন্তব্য করে চীনের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। এসব ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত বা সম্প্রচার বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika

News Desk: News Desk is the editorial publishing account for Tringlobe Media News, covering breaking news, public affairs, entertainment, community developments and regional stories across Trinidad and Tobago, the Caribbean and internationally.