ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, নাগরিক সেবায় অবহেলা করলে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কলাবাগান গ্রিন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ নাগরিক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, রমনা ও শাহবাগ এলাকার ১৫ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ রবিউল আলম। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্ড প্রতিনিধিরা জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতির সমস্যা এবং জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন। আবদুস সালাম বলেন, নাগরিকরা যেন সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহিতা চান। তিনি বলেন, “সমস্যাগুলো তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও সড়কবাতির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।” জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো সমাধানে সময়ের প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাস হয়েছে, তাই অল্প সময়ে সব ব্যবস্থা নিখুঁত করা সম্ভব নয়। তবে তিনি সড়কবাতি সচল রাখা, আবর্জনা পরিষ্কার এবং ট্রেড লাইসেন্স ও জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সনদ পেতে যেন কোনো হয়রানি না হয়, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকার প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, সিটি করপোরেশন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও বিপুলসংখ্যক নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাধানের সময়সীমাও নির্ধারণ করতে হবে। সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika