হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এই আদেশ দেন। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও আব্দুর রাজ্জাকসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন। এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছিল। গত ৪ অক্টোবর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলি পাওয়া নিয়ে ভোগান্তি ও জমজমের পানি না পাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী পরিচালক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান এবং অশালীন ও হুমকিসূচক ভাষা ব্যবহার করেন। এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের কেপিআই-ভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ করছিলেন। নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও তিনি উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন এবং যাত্রীদের জমজমের পানির পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেন। এসব ঘটনায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরির অভিযোগে ২ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। ওই দিনই ডিবি পুলিশ আখতারুজ্জামানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika