ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা জয়ী হয়েছেন। দেশটির নির্বাচনী আদালতের তথ্য অনুযায়ী, এই জয়ের মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফলাফল লাতিন আমেরিকাজুড়ে চলমান ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারার প্রভাবকে কিছুটা স্তিমিত করেছে। নির্বাচনের প্রথম ধাপে পিছিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলে লুলা জয়লাভ করেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করেছেন। দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে লুলার নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির জনপ্রিয়তা নিয়ে একসময় সংশয় তৈরি হয়েছিল। এছাড়া আধুনিক অর্থনীতি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের কাছে লুলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় তিনি এই জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। লুলার এই জয়কে তার রাজনৈতিক জীবনের বড় ধরনের প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দী ছিলেন ৮০ বছর বয়সী এই নেতা। পরবর্তীতে সেই অভিযোগ বাতিল হওয়ার পর ২০২২ সালে তিনি জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করেন। থিঙ্ক পলিসি নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেতোর মতে, ভোটাররা অনিশ্চয়তার চেয়ে লুলার চেনা ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বকে বেছে নিয়েছেন। প্রচারণার সময় লুলা তার আগের শাসনামলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাসের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বেকারত্ব, নিরক্ষরতা এবং বন উজাড়ের হার কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া বিনামূল্যে গণপরিবহন সেবা এবং সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচির তহবিল ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির মতো প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন। ১৯৮০-এর দশকে ব্রাজিলে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর লুলাই প্রথম প্রার্থী, যিনি প্রথম ধাপে পিছিয়ে থেকেও চূড়ান্ত নির্বাচনে জয়ী হলেন। তবে লুলার এই চতুর্থ মেয়াদে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। দেশটিতে ১৯৮০-এর দশকের পর সবচেয়ে রক্ষণশীল কংগ্রেস নির্বাচিত হয়েছে। জেইর বলসোনারোর লিবারেল পার্টি (পিএল) এবং তাদের মিত্ররা নিম্নকক্ষ ও সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। ফলে আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে লুলাকে শক্তিশালী বিরোধী শিবিরের মোকাবিলা করতে হবে।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika