গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গবেষণাকাজে ব্যবহৃত একটি পুকুর নিয়মবহির্ভূতভাবে ইজারা দেওয়া এবং সেখান থেকে মাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুকুরটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় শ্রমিকনেতারা এটি লিজ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর সরকারি ছুটির দিনে পুকুরটিতে মাছ ধরার জন্য জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হয়। তবে এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ ব্রির সরকারি তহবিলে জমা হয়নি। ব্রির খামারসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, প্রধান কার্যালয়ের শ্রমিক কলোনিতে অবস্থিত এই পুকুরটি মূলত মাছ চাষ ও গবেষণার পানি সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত। নিয়ম অনুযায়ী, এখানে উৎপাদিত মাছ শ্রমিকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিকনেতা মো. আলমগীর হোসেন দাবি করেন, পুকুরের মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে তাদের ক্লাব পরিচালিত হয়। তিনি আরও দাবি করেন, নিজেদের অর্থায়নে পুকুরে মাছ চাষ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে মাছ বিক্রির ঘটনায় চাকরিচ্যুত ১০ জন শ্রমিকের পরিবারের সহায়তায় এবং ক্লাবের বিনোদন সরঞ্জাম কেনার কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুকুর লিজ ও টিকিট বিক্রির এই ঘটনার সঙ্গে শ্রমিকনেতা মো. আলমগীর হোসেন এবং এআরডি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুকুল জড়িত রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালেও একই ধরনের ঘটনায় ১০ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। ব্রির পরিচালক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত মে মাস থেকে সংস্থাটিতে মহাপরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা শুরু হয়। ১৫ জুলাই মো. রফিকুল ইসলাম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বেড়েছে এবং কিছু কর্মকর্তা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালকের প্রশ্রয়েই এসব অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্রির মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শুষ্ক মৌসুমে গবেষণার কাজে এবং আশপাশের কৃষিজমিতে সেচের জন্য এই পুকুরের পানি ব্যবহার করা হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পুকুরটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত মহাপরিচালক জানান, দেশে ফিরে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika