হেমন্তের আগমনে আবহাওয়ায় পরিবর্তনের ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়, যা সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এই সময়ে সুস্থ থাকতে প্রকৃতিতে সহজলভ্য পাঁচটি পুষ্টিকর খাবার বা সুপারফুড নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। মিষ্টি আলু হেমন্তের অন্যতম পুষ্টিকর সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং পটাসিয়াম রয়েছে, যা চোখের জ্যোতি ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া এর উচ্চ ফাইবার ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, আমলকী একটি পুষ্টির পাওয়ারহাউস। এতে কমলার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে গলা ব্যথা, সর্দি ও কাশি দূর করতে আমলকী কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি লিভার পরিষ্কার রাখতে এবং চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। হেমন্তের বাজারে সহজলভ্য মূলা ও এর শাক ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার এবং অ্যান্থোসায়ানিনের চমৎকার উৎস। মূলা শরীর থেকে টক্সিন বা বর্জ্য বের করে দিতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শীতকালীন সর্দি-জ্বর থেকে সুরক্ষা দেয়। প্রোটিনের একটি ভালো উৎস হলো শিম। এতে উচ্চমাত্রার উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। কম ক্যালরিযুক্ত এই সবজিটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে, কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য শিম অত্যন্ত উপকারী। হেমন্তের কচি পালং শাক আয়রন, ভিটামিন কে, এ, সি এবং ফলিক অ্যাসিডের খনি হিসেবে পরিচিত। এটি শরীরে রক্তকণিকা গঠনে এবং হাড় মজবুত করতে সহায়তা করে। পালং শাকের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে এই শাক অতিরিক্ত না রেঁধে হালকা ভাপে বা স্যুপে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য সবসময় বিদেশি বা ব্যয়বহুল খাবারের প্রয়োজন নেই। ঋতুভিত্তিক দেশি খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখা সম্ভব।
Article source: Ajker Patrika | Image credit: Ajker Patrika